নেত্রকোনার মদনপুরে তেঁতুলিয়া মৌজায় ভূমিদস্যু লুৎ-দয়াল গংদের অবৈধভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা - ইকরা প্রতিদিন নেত্রকোনার মদনপুরে তেঁতুলিয়া মৌজায় ভূমিদস্যু লুৎ-দয়াল গংদের অবৈধভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা

শিরোনাম

[getTicker results="10" label="random" type="ticker"]

Header Adds

নেত্রকোনার মদনপুরে তেঁতুলিয়া মৌজায় ভূমিদস্যু লুৎ-দয়াল গংদের অবৈধভাবে জমি দখলের পাঁয়তারা

 

 

শাহজাদা আকন্দ, জেলা প্রতিনিধি :
নেত্রকোনায় থামছে না ভূমি সংক্রান্ত বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা। অভিযোগ উঠেছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের (নায়েব) অবহেলা, ছলচাতুরি এবং দায়সারা প্রতিবেদনের কারণে প্রকৃত মালিকরা জমি হারিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সর্বশেষ নেত্রকোনা সদর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া মৌজায় প্রভাবশালী এক কুচক্রী মহলের যোগসাজশে জমি জবরদখলের পাঁয়তারা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তেঁতুলিয়া গ্রামের লুৎ মিয়া, দয়াল ও কামরুল মেম্বার গংদের বিরুদ্ধে। সরেজমিনে গণমাধ্যমে সাথে প্রায় দুই শতাধিক প্রবীণ ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা বিভিন্ন কায়দায় জমি দখলের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সম্প্রতি ভুক্তভোগী ওয়ারিশানরা তাদের রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল ও ভোগদখলীয় মালিকানা নিয়ে তেঁতুলিয়া মাজার প্রাঙ্গণে এক সামাজিক সালিশ-দরবারের আয়োজন করেন। ওই সালিশে অভিযুক্ত লুৎ মিয়া (মৃত রহিম খাঁর ছেলে), দয়াল (মৃত হাসেম খাঁর ছেলে) এবং কামরুল মেম্বার (মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে) প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে, ৯০২ নম্বর দাগের ১০ একর ৮০ শতাংশ জমির মালিকানায় তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই। জমিদারি প্রথা আমল থেকেই দলিলমূলে এই সম্পত্তির প্রকৃত মালিক জাফর খাঁর উত্তরাধিকারীরা। তবে বিআরএস জরিপে ওই জমির একটি অংশ (৪ একর ১৫ শতাংশ) ১নং খাস খতিয়ানে চলে যাওয়ায় তারা এলাকাবাসী হিসেবে তা দাবি করেছিলেন। ভুক্তভোগী মাসুদ খান সাংবাদিকদের জানান, ৯০২ দাগের ১০ একর ৮০ শতাংশ জমির ওয়ারিশান বণ্টননামা ও সিএস মূলে তারা বৈধ মালিক এবং জমিটি তাদের দখলেই রয়েছে। কিন্তু মদনপুর ইউনিয়নের দুই ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মনিরুল ইসলাম ও সৈয়দ আব্দুল কাদিরের দায়িত্বহীনতা ও ভুল প্রতিবেদনের কারণে তারা আজ চরম ভোগান্তিতে। নায়েবগণ প্রতিবেদনে ৪ একর ১৫ শতাংশ জমি খাস খতিয়ানে যাওয়ার কথা উল্লেখ না করে পুরো অংশ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন। এর প্রতিকার চেয়ে হাই কোর্টে আবেদন করা হলে আদালত নথিপত্র সংশোধন করার জন্য নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতে পাঠিয়েছেন। মাসুদ খান আরও অভিযোগ করেন, "নায়েবদের আস্কারা পেয়ে লুৎ মিয়া ও দয়াল গংরা কিছুদিন আগে আমাদের পুকুর থেকে জোড়পূর্বক প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এ নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।" খবর পেয়ে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মালিকানার বিবরণ দিয়ে তিনি জানান, সিএস ও জমিদারি আমলের দলিলমূলে জাফর খাঁর ছেলে বারাম খাঁ এবং পরবর্তীতে তার ছেলে এজারত খাঁ এই সম্পত্তির মালিক হন। এজারত খাঁর ৮ পুত্র—আব্দুর রাশিদ খাঁ, জিলু খাঁ, আব্দুল মান্নাফ খাঁ, জমশেদ খাঁ, ইদ্রিস খাঁ, আবুন খাঁ, খুরশিদ খাঁ ও আক্কাস খাঁ ওয়ারিশ সূত্রে এই জমির মালিক। বিআরএস জরিপেও নতুন দাগে এই ৮ ভাইয়ের নাম রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার দুই তাধিক প্রবীণ ব্যক্তি প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত তদন্তপূর্বক ভূমিদস্যুদের কবল থেকে জমি রক্ষা এবং নায়েবদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।

Post a Comment

0 Comments