শাহজাদা আকন্দ প্রতিনিধি : নেত্রকোনায় জেলা প্রেস ক্লাবে পিতৃপরিচয় ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের দাবিতে ভুক্তভোগী সন্তানের সংবাদ সম্মেলন করেন । ভুক্তভোগী সন্তান বলেন, আজ আমি আলফি শারিন আরিয়ানা, জন্ম ১৮ সেপ্টেম্বর ২০০০ সাল। আমার বাবা আব্দুল আউয়াল হিমেল এবং মা মনিরা আহমেদ। এক বুক কষ্ট আর বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ভুক্তভোগী সন্তান বলেন, অত্যন্ত পরিতাপের সাথে আমাকে বলতে হচ্ছে যে, জন্মদাতা পিতা পাশে থাকা তো দূরের কথা, আজ তিনি সমাজের কাছে আমার অস্তিত্বকেই অস্বীকার করছেন। এক মেয়ের তার বাবার কাছে প্রশ্ন কেন আমি আজ সমাজের কাছে অবহেলিত অবজ্ঞার মাত্র হলাম, আমার পরিচয় ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছি বার বার । এ কেমন মনোভাব আমার পিতার এমন প্রশ্ন তুলে ধরেন সাংবাদিকদের মাঝে।ঘটনার সংক্ষিপ্ত প্রেক্ষাপট:আমার জন্মের পর থেকেই বাবা হিসেবে যে ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল, তিনি তা কখনোই করেননি। ২০০৬ সালে আমার মা-বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। আদালতের নির্দেশে তিনি আমাকে ২০১২ সাল পর্যন্ত নামমাত্র ১০০০ টাকা করে ভরণপোষণ পাঠাতেন। ২০১২ সালের পর আদালতের নির্দেশ ছিল তিনি আমার সকল দায়িত্ব নেবেন এবং আমি তার সাথেই থাকব। কিন্তু তিনি সেই নির্দেশ অমান্য করেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় অনিয়মিতভাবে সামান্য কিছু টাকা পাঠিয়ে তিনি দায় সারার চেষ্টা করেছেন।আমানবিক আচরণ ও বর্তমান সংকট:২০১৭ সালে আমার চোখে গুরুতর সমস্যা দেখা দিলে আমি বাবার সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে যাই। কিন্তু সেখানে আমার দাদি মনোয়ারা বেগম এবং বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী সারাবান তোহুরা ডালিয়া আমার সাথে অত্যন্ত জঘন্য আচরণ করেন এবং আমাকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন।উল্লেখ্য যে, আমার মায়ের সাথে অফিশিয়ালি বিচ্ছেদ হওয়ার আগেই তিনি তার দ্বিতীয় বিয়েটি সম্পন্ন করেছিলেন। ২০১৭ সালের ঐ ঘটনার পর থেকে তিনি আমার সাথে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেন এবং সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করতে থাকেন যে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে (দ্বিতীয় সংসারের), অর্থাৎ তিনি আমার অস্তিত্ব পুরোপুরি অস্বীকার করতে শুরু করেন। বর্তমানে আমি তার সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তিনি আমার নম্বরগুলো ব্লক করে দেন।আইনি লড়াই ও প্রভাব বিস্তার:আমি বাধ্য হয়ে পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, তিনি তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে একটি বারের জন্যও আদালতে হাজির হননি। উল্টো তিনি নেত্রকোনা আইনজীবী সমিতির সভাপতির ক্ষমতা অপব্যবহার করে মামলার কার্যক্রমে বাধা দিচ্ছেন এবং আমার আইনজীবীকেও প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন। তিনি আদালতে মিথ্যাচার করছেন যে, আমার চোখের কোনো সমস্যাই হয়নি এবং আমি মিথ্যা অজুহাতে মামলা করেছি।অভিযোগ ও দাবি:আমার বাবা বর্তমানে রাজধানীর গুলশানে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন। এনজিওর নামে কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট এনে তিনি ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করছেন এবং নিয়োগ বাণিজ্যের মতো দুর্নীতির সাথে যুক্ত আছেন বলে প্রতীয়মান হয়। এখন তিনি নিজের অপকর্মের দায় এড়াতে বর্তমান পরিবারসহ দেশত্যাগের পরিকল্পনা করছেন। আমি প্রশ্ন রাখতে চাই, যদি আমি তার সন্তান না-ই হই, তবে গত ১৭ বছর তিনি কেন আমাকে ভরণপোষণ দিয়েছেন? কেন এতদিন আদালতে আমার অস্তিত্ব অস্বীকার করেননি? আজ যখন তার সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে, তখন কেন তিনি আমাকে সমাজ ও পরিবারের কাছে অস্বীকার করছেন? আমার মা দীর্ঘ বছর ধরে অনেক কষ্ট করে আমাকে বড় করেছেন, তিনি কখনো অভিযোগ করেননি। কিন্তু একজন বাবা যখন তার নিজের সন্তানকে অস্বীকার করে এবং প্রভাব খাটিয়ে ন্যায়বিচারের পথ রুদ্ধ করে, তখন মিডিয়ার সামনে আসা ছাড়া আমার আর কোনো পথ খোলা ছিল না। আমি আমার পিতৃপরিচয়, সামাজিক স্বীকৃতি এবং ন্যায্য অধিকার আদায়ের জন্য আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করছি।





0 Comments